ঢাকা শহরটা তখনো ঘুমায়নি।
এই শহর বোধহয় কোনোদিন পুরোপুরি ঘুমায় না। কেউ বাড়ি ফেরে, কেউ বাড়ি ছাড়ে। কেউ প্রিয় মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে আসে, আর কেউ আমার মতো অচেনা এক পৃথিবীর খোঁজে দেশ ছাড়ে।
সেদিন আমি ঢাকা ছাড়ছিলাম।
গন্তব্য—পাপুয়া নিউ গিনি।
নামটা যতবার বলেছি, ততবারই মানুষের চোখে একটা প্রশ্ন দেখেছি।
“পাপুয়া নিউ গিনি! ওখানে কেন?”
কেউ বলেছে, দেশটা নাকি ভয়ংকর।
কেউ বলেছে, সেখানে এখনো এমন সব আদিবাসী জনগোষ্ঠী আছে, যাদের জীবন বাইরের পৃথিবীর মানুষের কাছে রহস্য।
কেউ আবার পুরোনো গল্প শুনিয়েছে—মানুষের মাংস খাওয়া, গভীর জঙ্গল, বিচ্ছিন্ন গ্রাম, অদ্ভুত সব সংস্কৃতি।
আমি শুনেছি।
কিন্তু মানুষের মুখে শোনা একটা দেশ আর নিজের চোখে দেখা একটা দেশ—দুটো কখনো এক হয় না।
তাই আমি দেখতে চেয়েছিলাম।
### ঢাকা থেকে গুয়াংজু
ঢাকা থেকে বিমান যখন আকাশে উঠল, নিচের শহরটা ধীরে ধীরে ছোট হতে লাগল। পরিচিত রাস্তা, পরিচিত আলো, পরিচিত দেশ—সব একসময় মেঘের নিচে হারিয়ে গেল।
আমার যাত্রাপথ ছিল চীনের গুয়াংজু হয়ে।
গুয়াংজু বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় বারবার মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর মানচিত্রে আমি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের পরিচিত সীমানা থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছি।
এরপর আবার বিমান।
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে।
বিমানের জানালা দিয়ে যখন পাপুয়া নিউ গিনির ভূমি প্রথম চোখে পড়ল, কিছুক্ষণ শুধু তাকিয়ে ছিলাম।
সবুজ।
যেদিকে চোখ যায়, সবুজের বিস্তার।
পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল আর তার মাঝখানে মানুষের ছোট ছোট বসতি।
মনে হচ্ছিল, পৃথিবী এখানে এসে শহর বানানোর আগে একটু থেমে গেছে।
### অচেনা দেশে পরিচিত মুখ
বিদেশে গিয়ে নিজের দেশের মানুষ দেখলে যে অনুভূতিটা হয়, সেটা ভাষায় বোঝানো কঠিন।
পাপুয়া নিউ গিনিতে আমার প্রথম বড় বিস্ময় দেশটির পাহাড় কিংবা সমুদ্র ছিল না।
ছিল মানুষ।
বিশেষ করে সেখানে থাকা বাঙালিরা।
আমি হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়েছিলাম, অথচ তাদের কাছে গিয়ে মনে হলো—বাংলাদেশ বুঝি এত দূরেও আমাকে ছেড়ে যায়নি।
তারা আমাকে গ্রহণ করলেন আপন মানুষের মতো।
খাওয়ালেন।
সময় দিলেন।
ঘুরিয়ে দেখালেন।
একজন প্রবাসী বাঙালির ঘরে বসে যখন পরিচিত খাবারের গন্ধ পেলাম, তখন হঠাৎ মনে হলো—দেশ আসলে শুধু একটা ভূখণ্ড নয়।
দেশ মানুষের ভেতরেও থাকে।
একজন মানুষ যখন নিজের দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে আরেকজন স্বদেশিকে একবেলা খাবার সামনে এগিয়ে দেয়, তখন সেই ছোট্ট টেবিলটাই কয়েক মুহূর্তের জন্য বাংলাদেশ হয়ে যায়।
### তারপর আমি শহর ছেড়ে মানুষের কাছে গেলাম
আমি শুধু পাপুয়া নিউ গিনির সুন্দর রাস্তা বা বড় ভবন দেখতে যাইনি।
আমি জানতে চেয়েছিলাম—এই দেশের সাধারণ মানুষ কীভাবে বাঁচে?
তাই তাদের সঙ্গে হাঁটলাম।
তাদের গ্রামে গেলাম।
তাদের ঘরের উঠানে বসেছি।
তাদের রান্না দেখেছি।
তাদের খাবার খেয়েছি।
কখনো এমন খাবার সামনে এসেছে যার নাম আগে শুনিনি। কখনো রান্নার পদ্ধতি দেখে অবাক হয়েছি। আবার কখনো দেখেছি, পৃথিবীর দুই প্রান্তের মানুষের রান্নাঘর আলাদা হলেও পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করার মমতাটা একই।
তাদের ঘরে গিয়ে একটা বিষয় খুব বেশি মনে হয়েছে—
আমরা পৃথিবীকে অনেক সময় দেশ দিয়ে ভাগ করি।
বাংলাদেশি।
পাপুয়া নিউ গিনিয়ান।
এশিয়ান।
মেলানেশিয়ান।
কিন্তু একটা সাধারণ পরিবারের ভেতরে ঢুকলে এই পরিচয়গুলো ছোট হয়ে আসে।
মা তার সন্তানের জন্য চিন্তা করেন।
বাবা পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন।
শিশুরা খেলতে চায়।
তরুণেরা ভালো একটা জীবন চায়।
মানুষের স্বপ্নের ভাষা খুব বেশি আলাদা নয়।
### স্কুলের ভেতরে আরেক পাপুয়া নিউ গিনি
আমি তাদের শিক্ষাব্যবস্থাও খুব কাছ থেকে দেখেছি।
স্কুলে গিয়েছি।
শিশুদের দেখেছি।
তাদের ক্লাসরুম, খেলার মাঠ, শিক্ষক—সব দেখেছি কাছ থেকে।
একটা শিশুর চোখের কৌতূহল ঢাকা, ভৈরব কিংবা পাপুয়া নিউ গিনি—কোথাও আলাদা নয়।
তাদেরও স্বপ্ন আছে।
কেউ হয়তো শিক্ষক হতে চায়।
কেউ ডাক্তার।
কেউ হয়তো এখনো জানেই না বড় হয়ে কী হবে।
কিন্তু স্কুলের মাঠে যখন তারা দৌড়ায়, তখন পৃথিবীর ধনী-গরিব দেশের হিসাবগুলো কয়েক মুহূর্তের জন্য অর্থহীন মনে হয়।
একটা শিশু হাসছে।
এই হাসির কোনো পাসপোর্ট নেই।
### অথচ সব সৌন্দর্যের পেছনে আরেকটা গল্প আছে
পাপুয়া নিউ গিনি সুন্দর।
অবিশ্বাস্য সুন্দর।
কিন্তু শুধু সৌন্দর্যের গল্প বললে দেশটার প্রতি অন্যায় করা হবে।
কারণ এই সবুজ ভূমির মাঝেও কষ্ট আছে।
কিছু এলাকায় নিরাপদ ও নিয়মিত পানির ব্যবস্থা এখনো বড় সমস্যা। এমন মানুষও আছে যাদের কাছে আমরা প্রতিদিন যে পানি সহজে ব্যবহার করি, সেই পানিই সংগ্রহ করতে হয় হিসাব করে।
আমরা শহরে কল খুলে পানি পাই।
কিন্তু পৃথিবীর আরেক প্রান্তে একই সময়ে কেউ হয়তো একটি পাত্র হাতে পানি সংগ্রহের অপেক্ষায় আছে।
তখন মনে হয়—
সভ্যতার উন্নতি কি উঁচু ভবনের উচ্চতা দিয়ে মাপা উচিত?
নাকি একজন মানুষের কাছে এক গ্লাস পরিষ্কার পানি কত সহজে পৌঁছায়, সেটা দিয়ে?
### তারপর শুনলাম এক ভয়ংকর ইতিহাস
এই দেশের ইতিহাসের একটি অধ্যায় আছে, যেটা শুনলে আজও গা শিউরে ওঠে।
তবে গল্পটা বলার আগে একটা কথা পরিষ্কার করা দরকার—
পাপুয়া নিউ গিনির সব মানুষ কখনোই “মানুষখেকো” ছিল না।
দেশটির শত শত আলাদা জনগোষ্ঠী, ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। কিন্তু অতীতে কিছু বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নরখাদক প্রথার ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত গল্পগুলোর একটি Fore জনগোষ্ঠীকে ঘিরে।
তাদের মধ্যে একসময় মৃত স্বজনের দেহের অংশ খাওয়ার একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াভিত্তিক প্রথা ছিল।
তাদের কাছে সেটি নিছক ক্ষুধার খাবার ছিল না।
ছিল বিশ্বাস ও মৃত মানুষের প্রতি আচারের অংশ।
কিন্তু সেই প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে জন্ম নেয় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় অধ্যায়—
**কুরু।**
মানুষ অসুস্থ হতে শুরু করল।
শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাচ্ছিল।
হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল।
কাঁপুনি দেখা দিচ্ছিল।
শেষ পর্যন্ত রোগটি হয়ে উঠত প্রাণঘাতী।
পরে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার রোগ নয়।
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অস্বাভাবিক প্রোটিন—যাকে আমরা এখন **prion** নামে জানি।
মৃত মানুষের সংক্রমিত স্নায়ুতন্ত্রের টিস্যুর সংস্পর্শ ও সেবনের মাধ্যমে রোগটি ছড়িয়েছিল।
ভাবুন একবার—
পৃথিবীর একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন ও মৃত্যু নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এমন এক রোগপ্রক্রিয়ার সন্ধান পেলেন, যা পরে মানুষের মস্তিষ্কের ভয়ংকর কিছু রোগ বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
যে গল্প বাইরে থেকে শুধু “মানুষের মাংস খাওয়ার ভয়ংকর ইতিহাস” মনে হয়, তার গভীরে ঢুকলে পাওয়া যায় সংস্কৃতি, বিশ্বাস, মৃত্যু এবং বিজ্ঞানের এক অসাধারণ জটিল গল্প।
### আমি বুঝতে শুরু করলাম—একটা দেশকে দূর থেকে বিচার করা খুব সহজ
পাপুয়া নিউ গিনিতে যাওয়ার আগে আমার মাথাতেও অনেক গল্প ছিল।
ভয় ছিল।
কৌতূহল ছিল।
শোনা কথা ছিল।
কিন্তু সেখানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে বসার পর গল্পগুলো বদলাতে শুরু করল।
কারণ খবরের শিরোনামে একজন মানুষকে দেখা যায় না।
সেখানে দেখা যায় ঘটনা।
কিন্তু কারও ঘরে গেলে দেখা যায় মানুষটাকে।
যে লোকটি আমাকে তার গ্রাম দেখাচ্ছে, তারও পরিবার আছে।
যে মানুষটি আমার সামনে খাবার রাখছে, সে হয়তো জানে আমি কয়েকদিন পর চলে যাব। হয়তো জীবনে আর কোনোদিন আমাদের দেখা হবে না।
তারপরও সে আমাকে খাওয়াচ্ছে।
কেন?
সম্ভবত পৃথিবীর কিছু প্রশ্নের উত্তর অর্থনীতিতে নেই।
আছে মানবিকতায়।
### তাদের খাবার খেয়েছি, তাদের গল্প শুনেছি
ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার সম্ভবত এটাই।
একটা দেশের খাবার শুধু পেট ভরায় না।
তার ইতিহাসও বলে।
মানুষ কী চাষ করে, কী শিকার করে, কোন পরিবেশে থাকে, কীভাবে আগুন জ্বালায়, কীভাবে পরিবার নিয়ে বসে খায়—সবকিছু খাবারের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।
আমি তাদের খাবার খেয়েছি।
কখনো অবাক হয়েছি।
কখনো দ্বিধায় পড়েছি।
কখনো স্বাদটা পরিচিত মনে হয়েছে।
কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তাদের সঙ্গে একই জায়গায় বসে খাওয়াটা।
একটা প্লেটের চারপাশে বসলে মানুষ খুব দ্রুত কাছাকাছি চলে আসে।
সেখানে ক্যামেরা থাকে না।
জাতীয়তা থাকে না।
থাকে শুধু গল্প।
### একটা দেশ—শত শত পৃথিবী
পাপুয়া নিউ গিনিকে একটা সংস্কৃতির দেশ ভাবলে ভুল হবে।
এখানে শত শত ভাষা।
শত শত জনগোষ্ঠী।
পাহাড়ের এক পাশের মানুষের ভাষা, পোশাক, রীতি আর জীবনযাপন অন্য পাশের মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে।
এই বৈচিত্র্য আমাকে বারবার অবাক করেছে।
আমরা মানচিত্রে একটা সীমারেখা টেনে লিখে দিয়েছি—Papua New Guinea।
কিন্তু সেই সীমারেখার ভেতরে যেন অসংখ্য ছোট ছোট পৃথিবী।
কোনো পৃথিবী আধুনিক শহরের।
কোনো পৃথিবী সমুদ্রের।
কোনোটা পাহাড়ের।
কোনোটা গভীর জঙ্গলের।
আর কোনোটা এমন এক গ্রামের, যেখানে সন্ধ্যা নামলে চারপাশের অন্ধকার দেখে মনে হয়—হাজার বছর আগেও হয়তো রাত ঠিক এমনই ছিল।
### একদিন ফিরতে হলো
ভ্রমণের একটা নিষ্ঠুর নিয়ম আছে।
আপনি যত সুন্দর জায়গাতেই যান না কেন, একদিন ব্যাগ গোছাতে হয়।
যে মানুষগুলোর সঙ্গে কয়েকদিন আগেও পরিচয় ছিল না, বিদায়ের সময় তাদের জন্যই মন খারাপ হয়।
পাপুয়া নিউ গিনি ছাড়ার সময় আমারও তাই হচ্ছিল।
আমি ভাবছিলাম—
আমি এখানে এসেছিলাম একটা দেশ দেখতে।
ফিরছি অনেকগুলো মানুষের গল্প নিয়ে।
এসেছিলাম রহস্য খুঁজতে।
ফিরছি কিছু উত্তর আর তার চেয়েও বেশি প্রশ্ন নিয়ে।
এসেছিলাম ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করতে।
কিন্তু কিছু দৃশ্য ক্যামেরায় নয়, মাথার ভেতরে রেকর্ড হয়ে গেছে।
বাঙালিদের সেই আপ্যায়ন।
লোকাল পরিবারের উঠান।
গ্রামের পথ।
স্কুলের শিশুদের হাসি।
অপরিচিত খাবারের স্বাদ।
পানির জন্য মানুষের সংগ্রাম।
পাহাড়ের নীরবতা।
আর একটি দেশের এমন এক অতীত, যেখানে মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে জন্ম নিয়েছিল কুরু নামের এক ভয়ংকর রোগের ইতিহাস।
### শেষ কথা
পৃথিবীর কোনো দেশকে শুধু তার ভয়ংকর ইতিহাস দিয়ে বিচার করা যায় না।
আবার শুধু তার সুন্দর পাহাড়-সমুদ্র দেখিয়েও দেশটাকে বোঝা যায় না।
একটা দেশ আসলে তার মানুষ।
তাদের হাসি।
তাদের অভাব।
তাদের বিশ্বাস।
তাদের ভুল।
তাদের ইতিহাস।
তাদের সন্তানদের স্বপ্ন।
পাপুয়া নিউ গিনিতে আমি আধুনিক পৃথিবীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক পৃথিবী দেখেছি।
কোথাও উন্নতি।
কোথাও অভাব।
কোথাও প্রাচীন সংস্কৃতির ছায়া।
কোথাও নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন।
আর সবকিছুর মাঝখানে মানুষ।
ঢাকা থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আমি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে গিয়েছিলাম অচেনা মানুষ দেখতে।
শেষ পর্যন্ত আবিষ্কার করলাম—
মানুষ খুব বেশি অচেনা নয়।
ভাষা বদলায়।
গায়ের রং বদলায়।
খাবার বদলায়।
ঘর বদলায়।
দেশের পতাকা বদলায়।
কিন্তু কেউ যখন আপনাকে নিজের ঘরে ডেকে বসায়, নিজের খাবার থেকে ভাগ দেয়, হাসিমুখে নিজের গ্রামের গল্প বলে—
তখন পৃথিবীর মানচিত্রটা হঠাৎ খুব ছোট হয়ে আসে।
আর সেই ছোট্ট পৃথিবীতে মনে হয়—
**মানুষ থেকে মানুষের দূরত্বটাই হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দূরত্ব।**
পাপুয়া নিউ গিনি আমাকে শুধু একটি ভ্রমণ দেয়নি।
আমাকে অনেকগুলো গল্প দিয়েছে।
আর কিছু কিছু ভ্রমণ শেষ হয়ে যায় বিমানবন্দরে।
কিছু ভ্রমণ শেষ হয় না।
মানুষ ফিরে আসে।
কিন্তু গল্পটা থেকে যায়।